না তাজমহল, না তেজমহালয়া- গড়ে উঠুক স্বাস্থ্যমহল ও শিক্ষামহালয়া

মোহাম্মদ জিম নাওয়াজ:সাম্প্রতিক সারা দেশ জুড়ে ঘরে বাইরে রাস্তা ঘটে বিভিন্ন মহলে তাজমহল নিয়ে রকমারি আলোচনা..হিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবার জানিয়েছে,তাজমহলে নামাজের অধিকার থাকলে শিবের পুজোর অধিকারও দিতে হবে।এই বিতর্কের অবসান ঘটাতে  একটি স্যেকুলারীয় দাবী,তাজমহলে নামাজ কিংবা পুজো বন্ধ করে, তাজমহল গুড়িয়ে দিয়ে মানবিকতার খাতিরে হাসপাতাল এবং বিদ্যালয় তৈরি হোক।
পর্যবেক্ষক মহলের বক্তব্য তাজমহল নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে তার পেছনের মূল কারণ, মোদী সরকারের ব্যর্থতাকে চাপা দেওয়া। মানুষের খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং বাসস্থান যোগানের ক্ষেত্রে ব্যর্থ মোদী সরকার নজর ঘুরিয়ে দিতেই গরু-গোবরের মত তাজমহল ইস্যুকে সামনে এনেছে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলিকে চাপা দিতে ভবিষ্যতেও এভাবেই যে আরও নানান সাম্প্রদায়িক ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হবে, এতে কারও কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়। আর আমরাও আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা এবং অধিকার ভুলে গিয়ে মেতে উঠবো সরকারের তৈরি উদ্দেশ্যমূলক ইস্যু নিয়ে। এনিয়েও কারও কোনও সন্দেহ থাকার কথা নয়।

সে যাইহোক, তাজমহল নিয়ে তৈরি ইস্যু এভাবেই চলতে থাকবে। এরপর, হয়তো একদিন ঢুকে পড়বে শিবলিঙ্গ। শুরু হবে পুজো। কোর্টে মামলাও হবে। ভারতের মহান সুপ্রিমকোর্ট রায় দিয়ে নামাজ এবং পুজো- দুটোই বন্ধ করবে। 
এমনই নানান ঘটনাপরম্পরার মধ্য দিয়ে চলতে চলতে শৈবরা একদিন তাজমহল গুড়িয়ে দেবে। সারা দেশজুড়ে শুরু হবে দাঙ্গা। তাজমহল ধ্বংসকারী কিংবা দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে মামলা চলবে, কিন্তু রায় হবে না। কারও শাস্তিও হবে না। বিতর্ক চলতেই থাকবে, 'উহা তাজমহল নাকি তেজমহালয়া?’আর এই বিতর্কের মাঝেই একদল স্যেকুলার গেয়ে উঠবেন মানবতার গান,না তাজমহল, না তেজমহালয়া-  গড়ে উঠুক স্বাস্থ্যমহল, গড়ে উঠুক শিক্ষামহালয়া
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment