মরিয়ম নওয়াজ প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নাকি জেলে যাচ্ছেন ?

ক’দিন আগেও মরিয়ম নওয়াজকে কেন্দ্র করে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো, তা হলো- তিনি কি পাকিস্তানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হচ্ছেন? কিন্তু বর্তমানে সে প্রশ্ন ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ‘তিনি কি জেলে যাচ্ছেন?’
পাকিস্তানের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ৪৪ বছর বয়সী কন্যা মরিয়ম সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতার মসনদ নিয়ে তার চাচা শেহবাজ শরিফসহ বেশ ক’জন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আত্মীয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তার চাচা শেহবাজকে নওয়াজ শরিফের পরবর্তী উত্তরসুরী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মরিয়মকে বেশ ক’বছর ধরে তার পিতার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পিতার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতৃত্বের বিষয়ে বিশেষ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।
পানামা পেপার কেলেঙ্কারির ঘটনায় ফাঁস হওয়া দুর্নীতির মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত জুলাইয়ে নওয়াজ শরিফকে যখন ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে হয়, তখন থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন জনমুখ। হয়ে উঠেন ক্ষমতার লড়াইয়ে একজন খেলোয়াড় এবং বিচার বিভাগ ও সামরিক বাহিনীর কঠোর সমালোচনাকারী। এরপর তার পিতার খালি হওয়া আসনে উপ-নির্বাচনে মা কুলসুম নওয়াজকে জিতিয়ে আনায় প্রধান সংগঠন হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
কিন্তু লন্ডনে অবৈধ সম্পত্তির যে মামলায় বাবা নওয়াজকে ক্ষমতা হারাতে হয়েছে, সেই একই মামলায় মরিয়মকেও যেতে হয়েছে আদালতে। একটি জবাবদিহিতামূলক আদালত এ মাসে তার বাবা, তিনি এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত শুরু করে।কিন্তু মরিয়ম জোর দিয়ে বলেন যে, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। এবং সেপ্টেম্বরের উপ-নির্বাচন এ সাক্ষ্য দেয় যে, জনগণ এখনো তার এবং তার দলের পক্ষে আছেন। অভিযোগ গঠনের পরেও তিনি জনসমাবেশ করে যাচ্ছেন, এমনকি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলোও দেখভাল করে যাচ্ছেন।‘এ মামলা রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে এবং নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে চাপ সৃষ্টিরই একটি প্রচেষ্টা’, মার্কিন গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাথে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন মরিয়ম। ‘জনগণ পাকিস্তান মুসলিম লিগের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছে এবং আরো জোরদার করেছে।’


(Sutro-Naya Digonto)



Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment