রপ্তানি জগতে ঘুষ প্রদানে বিশ্বে ভারত বিশ্বশ্রেষ্ট!!!

NNS:"ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল" বহুদিন যাবৎ সমীক্ষা করে জানাচ্ছে যে রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে ভারত বিশ্বের বাজারে ঘুষ দিয়ে বাজি মাত বা কেল্লা ফতে সব চেয়ে বেশি প্রকারে করে চলেছে | অর্থাৎ ঘুষ প্রদানকারী দেশ হিসাবে ভারত সর্বশ্রেষ্ট তথা বিশ্বশ্রেষ্টের মর্যাদা লাভ করেছে | সংস্থাটি বলছে যে নিম্নমানের জিনিস ঘুষ দিয়ে বিশ্ববাজারে চালিয়ে দেবার সবচেয়ে ওস্তাদ দেশ ভারত | এই সংস্থা ৩০ টি রপ্তানিকারক দেশের রপ্তানি সংক্রান্ত সব কিছুর সমীক্ষা চালাতে গিয়ে স্তম্ভিত হোয়ে গেছে | ঘুষকে কিভাবে শিল্পের মর্যাদায় উন্নীত করা যায় তা দেখে তারা হতবাক | ঘুষ প্রদানকারি দেশ হিসাবে কোন দেশের কোথায় অবস্থান তা যদি ক্রমান্বয়ে সাজানো হয় তাহলে চিত্রটি দাঁড়ায় ১)ভারত , ২)চীন , ৩)রাশিয়া , ৪) তুরস্ক , ৫) তাইওয়ান , ৬) মালয়েশিয়া , ৭) দক্ষিণ আফ্রিকা , ৮) ব্রাজিল , ৯) সৌদি আরব , ১০ ) দক্ষিণ কোরিয়া |
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে ভারত যেমন নিম্নমানের ঘুষ দিয়ে বিদেশের বাজারে চালিয়ে দিচ্ছে ঠিক তেমনি দৃতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারী দেশ চীন ও রাশিয়াও সেভাবেই নিশ্চই তাদের নিম্নমাণের মাল রপ্তানির ক্ষেত্রে চালিয়ে যাচ্ছে | ভারত এই দুটি দেশের কাছে রপ্তানির বেশ বড় বাজার | রাশিয়া প্রচুর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই শুধু আমদেরকে রপ্তানি করে না , এদেশে অনেক কলকারখানা রাশিয়ার সহায়তাতেই গড়ে উঠেছে |তাহলে প্রতিরক্ষার সেই সব সাজসরঞ্জাম তথা কলকারখানার সাজসরঞ্জাম সব নিম্নমানের নয় তো ? অজস্র মিগ্ -২১ বিমান ভারতের যত্রতত্র ভেঙে পড়ছে | অথচ এগুলিকেই বেশ উপযুক্ত বিমান হিসাবে রাশিয়া আমাদের বিক্রি করেছিল | যদি ঘুষ দিয়েই রপ্তানি করে থাকে সেইসব যুদ্ধবিমান , তাহলে এদেশে কে বা কারা ঘুষ খেয়েছিল ? প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে এ বড় বিপদের আশঙ্কা | এশিয়ার বৃহত্তম ভারী শিল্পের তথা খনির যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা ছিল দুর্গাপুরের এম এ এম সি (মাইনিং এন্ড আলাইড মেশিনারি কর্পোরেশন ) যেটি একবিংশ শতাব্দীতে আমরা পা রাখার সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে ক্ষতিতে চলার দরুন বন্ধ হোয়ে গেছে | চীনের মত প্রতিবেশী বিশাল দেশ ইদানিং ভারতে প্রচুর ইলেক্ট্রনিক গুডস , খেলনা , ফল , বাজী , কাপড় , সাইকেল প্রভিতি রপ্তানি করছে..মোটরসাইকেলের বাজারেও তারা ঢুকলো বলে | এসব তাহলে ঘুষের মাধ্যমে প্রবেশ নয় তো ? কারন সমীক্ষায় বলছে ঘুষের মাধ্যমে রপ্তানির ক্ষেত্রে নিম্নমানের মান চালিয়ে দেবার ক্ষেত্রে চীন ও রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় ও তৃতীয় |

অন্যান্য দেশও ঘুষ নিয়ে মাল চালাবার চেষ্টা করে তবে তারা ভারতের মতো ঘুষ শিল্পে ততটা পারদর্শী হতে পারেনি | কম ঘুষ প্রদানকারী দেশ হিসাবে উক্ত সংস্থাটি আমেরিকা , ইংল্যান্ড , সুইডেন , কানাডা , অস্ট্রেলিয়া , বেলজিয়াম , অস্ট্রিয়া , নেদারল্যান্ড প্রভিতি দেশকে চিহ্নিত করেছে | বলা হোয়েছে রপ্তানির ক্ষেত্রে এসব দেশের ঠাঁই অনেক উপরে বলেও ঘুষ শিল্পে ভারত , চীন , রাশিয়া হতে এরা অনেক পিছিয়ে | ১৯৬২ সালের আগে চীনের সাথে ভারতের প্রগাঢ় বন্ধুত্ব ছিল |পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার দেশগুলির মধ্যে ভারত , চীন , মিশর , গ্রীস দেশগুলি পরে | চীনও ভারত প্রতিবেশী দেশ . তাহলে অতীতে ভারত থেকেই এই ঘুষ শিল্প চীন দেশে রপ্তানি হয়নি তো ? রাশিয়া ও ভারতের বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিতই শুধু নয় , বিশ্ব বিদিত বটে | প্রশ্ন জাগে তারাও এ শিক্ষা আমাদের কাছে পায়নি তো ? যদি তাই হোয়ে থাকে তাহলে তো আজ তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানে জ্ঞানী হোয়ে তারা আমাদেরই বাজারে তাদের নিম্নমানের মাল চালিয়ে দিচ্ছে |
এটাই হয়তো ভাগ্যলিপি | তবে সংস্থটি অবাক হোয়ে গেছে সুইজারল্যান্ডকে নিয়ে | তাঁরা অত্যন্ত প্রশংসার সাথে জানাচ্ছে যে রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের একমাত্র ঘুষহীন দেশ সুইজারল্যান্ড | পৃথিবীর ৮০ শতাংশ ব্যাবসা বাণিজ্য যে সব দেশ নিয়ন্ত্রণ করে শুধু তাদেরকে নিয়েই এই সমীক্ষাটি চালানো হোয়েছে | তাই অন্যান্য বহু দেশ এই সমীক্ষায় আসেনি |
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment