সহজ উপায়ে দূর করা যেতে পারে পাকা চুলের সমস্যা!!!

আজকাল অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পাকার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। হরমোনজনিত সমস্যা, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব, বংশগত কারণেও মানুষের চুল পেকে থাকে। চুল হলো কেরাটিন নামের একটা প্রোটিন দ্বারা তৈরি। যখন চুল বড় হতে শুরু করে, তখন হেয়ার ফলিকলের আশেপাশের মেলানোসাইটিস হেয়ার শ্যাফটের করটেক্সে মেলানিন ইনজেক্ট করে, ফলে চুল কালো দেখায়। কোন কারণে যখন হেয়ার ফলিকলের আশেপাশের মেলানোসাইটিস এই মেলানিন তৈরি করা
কমিয়ে দেয়, তখনই চুল পাকতে শুরু করে। তো এই চুল পাকার সমস্যার সমাধান করতে আমরা অনেকেই মার্কেট থেকে হেয়ার কালার কিনে এনে বাসাতেই হেয়ার ডাই করছি। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পাকা চুল তো উঁকি দিচ্ছেই, সেই সাথে কেমিক্যাল আর ক্ষতিকর অ্যামোনিয়ার প্রভাবে চুল হয়ে যাচ্ছে রুক্ষ, শুষ্ক আর ভঙ্গুর। তাহলে কি করবেন তাই তো? পাকা চুল দূর হবে বাড়িতে থাকা উপাদানেই। খুব সামান্য খরচে এবং বাসায় বসেই কিন্তু কোন প্রকার সাইড ইফেক্ট ছাড়াই পাকা চুল দূর করা সম্ভব। জেনে  নেন ঠিক  কি  ভাবে .....

(১) নারকেল তেল আর কারিপাতা মিশ্রণ 

১০০ মিলি খাঁটি নারকেল তেল একটা হাঁড়িতে নিয়ে তাতে ৮-১০টি কারিপাতা ছেড়ে দিন। আগুনের আঁচ একদম কমিয়ে রাখুন। ১০-১৫ মিনিট পর হাঁড়িটা নামিয়ে তেলটা ছেঁকে একটা পরিষ্কার শুকনো বোতলে সংরক্ষণ করুন। ১ দিন পরপর পুরো মাথার স্ক্যাল্পে তেলটা ভালো করে ম্যাসাজ করবেন।  সারারাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলবেন।
কারিপাতায় ভিটামিন বি ৬ আছে যা চুল পড়ার বিরুদ্ধে একটি হরমোন নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সেই সাথে চুলের অকালপক্বতা রোধ করতে সাহায্য করে। আর নারকেল তেলের গুণের কথা কি আর বলে শেষ করা সম্ভব? নারকেল তেলে থাকা ন্যাচারাল অ্যান্টি অক্সিডেন্টস হেয়ার শ্যাফটগুলোকে মজবুত করে তোলে, ডিপ কন্ডিশনিং করে আর চুল পাকা রোধে সহায়তা করে।
(২) নারকেল তেল, আমলকী আর জবাফুল সংমিশ্রণ 

১০০ মিলি খাঁটি নারকেল তেল একটা হাঁড়িতে নিয়ে তাতে দুটো জবাফুল আর দুটো আমলকী ছেড়ে দিন। আগুনের আঁচ একদম কমিয়ে রাখুন। ১৫ মিনিট পর হাঁড়িটা নামিয়ে তেলটা ঠাণ্ডা হবার জন্য রাখুন। এরপর তেলটা ছেঁকে একটা পরিষ্কার শুকনো বোতলে সংরক্ষণ করুন। এই তেলটিও ১ দিন পরপর পুরো মাথার স্ক্যাল্পে তেলটা ভালো করে ম্যাসাজ করবেন।বিশেষ করে পাকা চুলগুলোর গোঁড়ায়। সারারাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলবেন।
আমলকীতে আছে ভিটামিন সি, যা চুল পড়া কমায় আর নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। জবাফুল চুলকে প্রাকৃতিকভাবে কালো করে তুলতে সাহায্য করে। আর নারকেল তেল চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে ভেতর থেকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
(৩) নারকেল তেল, মেহেদি আর চায়ের লিকার

২০০ মিলি জলে ৪ চা চামচ চা পাতা ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। এবার তাতে ১ টেবিল চামচ নারকেল তেল আর ২ টেবিল চামচ মেহেদি বাটা/গুঁড়ো মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করে নিন। সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দুইদিন এই হেয়ারপ্যাকটি মাথায় লাগান। মাথায় লাগানোর দু ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
মেহেদি আর চায়ের লিকার চুলকে প্রাকৃতিকভাবেই হালকা লালচে খয়েরি রঙে রাঙিয়ে তোলে। আর নারকেল তেলটা চুলকে ডিপ কন্ডিশন করে, ফলে মেহেদি ব্যবহারের কারণে চুল রুক্ষ হয়না।
সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এসব উপাদান দিয়েই কিন্তু পাকা চুল দূর করা সম্ভব। না কোন সাইড ইফেক্টের ভয়, না কোন বাড়তি খরচ। আর হ্যা, একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, নিঃশ্বাসের জন্য যেমন অক্সিজেন প্রয়োজন, চুলের জন্য ও কিন্তু তেল-ই প্রয়োজন। যদি না বুঝে বা শখের বশে চুলে মার্কেট থেকে কেনা হেয়ার কালার ব্যবহার করেও ফেলেন, অবশ্যই সেই কালারড চুলে এবং স্ক্যাল্পে নিয়মিত নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। স্ক্যাল্পে ব্লাড সার্কুলেশন ভালো হবে এবং চুলের বাড়তি রুক্ষতা, শুষ্কতাও দূর হবে।


(সম্পা দাস কর্তৃক সংগৃহিত)

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment