যৌতুক চাইলেই গুলি করে মারবে 'শুটার দাদী'

সাধারণতঃ মানুষ যেখানে শেষ করে আর 'দাদী' সেখান থেকে শুরু করেছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের পারকাশি টোমার ৬০ বছর বয়সে প্রথমে বন্দুক হাতে নেন। বর্তমানে তার বয়স ৮৪ বছর।২৫ টি দেশীয় মেডেল জয়ী,চন্দ্রা তমার শ্যুটার দাদী বলেই বিখ্যাত । তিনি এখন যৌতুক-বিরোধী ভূমিকায় নেমেছেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশে যৌতুকের দাবিতে নারীদের হত্যার ঘটনা হরহামেশাই ঘটে। কিন্তু 'দাদী' যে গ্রামে বসবাস করেন সেখানে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম।সে গ্রামে কোন মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুক চাওয়া হয় না। লোকে বলে, "যৌতুক চাইলে দাদী গুলি করে মারবে।"

'শুটার দাদী' কখনো স্কুলে যাননি। তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কিন্তু তিনি নিজে তার একটি আলাদা পরিচিতি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য ৬০ বছর বয়সে তিনি শুটিং-এর প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন।
একদিন তিনি তার নাতনীদের সাথে শুটিং রেঞ্জে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়েই তার আগ্রহ জন্মে। এরপর টানা কয়েকদিন তিনি সেখানে যান এবং শুটারদের কৌশল দেখেন।

একদিন সেখানকার প্রশিক্ষকরা তাকে বন্দুক চালাতে বলেন। কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু স্থির করে সেখানে নিশানা করতে বলেন প্রশিক্ষকরা। তার বন্দুক চালানো দেখে প্রশিক্ষকরা বলেন যে তিনি খুব ভালো করবেন। প্রশিক্ষকরা তাকে উৎসাহিত করেন। এরপর তিনি গোপনে তার শুটিং প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান।আর  এখন তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত শুটার। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি অনেক পদক লাভ করেছেন। বিভিন্ন টেলিভিশনে তাকে নিয়ে অনুষ্ঠানও তৈরি হয়েছে।

'শুটার দাদীর' সাফল্য দেখে অনেক নারী অনুপ্রাণিত হয়েছে। একজন নারী শুটার বলেন, "দাদীকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। আমার মনে হয়, তিনি যদি পারেন তাহলে আমিও পারবো।"'শুটার দাদীর' লক্ষ্য তার গ্রামে একটি আন্তর্জাতিক মানের শুটিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা।

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment