ইসলাম ধর্মে রোজা পালন কতটা বিজ্ঞান সম্মত?


ড: মেহেদি হাসান মোল্লা :  'রমজান' শব্দটি আরবি 'রমজ' ধাতু থেকে উৎপত্তি যার অর্থ হল 'দগ্ধ করা','পুড়িয়ে দেওয়া' বা উত্তাপে জালিয়ে দেওয়া। না! এখানে আগুনের উত্তাপে নিজেকে পোড়ানোর কথা বলা হয়নি বরং নিজের কু-প্রবৃত্তি গুলি কে পুড়িয়ে মানবাত্মাকে খাঁটি শুদ্ধ করে পরিশোধিত মানুষরুপে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে । ইসলামের পাঁচটি মৌলিক ভিত্তির মধ্যে অন্যতম একটি রোজা যেটি রমজান মাসে গুরুত্বসহকারে পালিত হয়। এই 'রোজা' শব্দটি ফার্সি শব্দ যেটি আরবি শব্দ 'সাওম'(একবচনে) বা 'সিয়াম'(বহুবচনে) থেকে উৎপত্তি যার অর্থ 'বিরত থাকা' বা 'আত্মসংযম করা'। এই রোজা পালন করতে গিয়ে একজনকে রমযান মাসের প্রতিদিন সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানীয় ও খাদ্যাহার থেকে এবং এমনকি শারীরিক সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকতে হয়। এছাড়াও এই সময় সকল প্রকার ঝগড়া-বিবাদ, মিথ্যা কথা বলা,অন্যের সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকে নিজেদের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। এ কারণে রোজা যে শুধু মাত্র আধ্যাত্মিক উন্নতিই সাধন করে তা নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক উন্নতিও ঘটায়। 

জীব বিজ্ঞানের গবেষণার ফলে আমরা জানি যে, প্রতিটি প্রাণীর শরীর একটি উচ্চতর এবং সুক্ষ্ম জৈবরাসায়নিক কারখানা এবং এটিকে সচল রাখতে প্রয়োজন হয় শক্তি। উক্ত শক্তির যোগান দিতে জীবকূল নানা প্রকারের খাদ্যদ্রব্য ভক্ষন করে । সাধারণত একজন মানুষের এই শক্তি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কমপক্ষে দৈনিক তিন বার খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করতে হয়। তবে মানুষ উন্নত আত্মা সম্পন্ন জীব হওয়ায় মানুষের সঙ্গে অন্যান্য পশুর পার্থক্য হলো মানুষ তার ক্ষুধা-পিপাসা এবং যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রমযান মাস প্রকৃতপক্ষে মানুষকে নিজের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেয়। এতো গেল ধর্মীয় দিক এবার আসা যাক বিজ্ঞানের কথায়। ধর্ম তো বিজ্ঞানের বিপক্ষে যেতে পারেনা। এখন প্রশ্ন হল, রোজার সময় দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকা আমাদের শরীরকে কিভাবে প্রভাবিত করছে। রোজা আমাদের শরীরের জন্য কি আদৌ উপকারী! না কি রোজা আমাদের শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন বহু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত। 

অনেক মুসলিম এবং অমুসলিম বিজ্ঞানী এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছেন এবং চালাচ্ছেন। আলোচ্য প্রবন্ধে বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে রোজা বা ফাস্টিং সম্পর্কে আমরা জানতে চেষ্টা করবো। আমরা সকলে জাপানের বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমির নাম শুনেছি যিনি ২০১৬ সালে 'অটোফ্যাজি' নিয়ে গবেষনার জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন। 'অটোফ্যাজি' শব্দটির উৎপত্তি হয় আজ থেকে প্রায় ৫৪ বছর আগে, তবে বিশ্ববাসী এটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে ২০১৬ সালের পর থেকে।'অটোফ্যাজি' মূলত গ্রিক শব্দ, যার বাংলা অর্থ হলো ‘আত্মভক্ষণ’ বা 'নিজেকে খেয়ে ফেলা'। না! মানুষ নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলবেনা! বিষয়টি শুনতে ভয়ানক হলেও এটা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। কেননা এটি শরীরের আভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে পরিষ্কার করার একটা প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হয় কোষীয় পর্যায়ে। জীবদেহের গঠন ও কাজের একক হচ্ছে কোষ। কোষের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকারক জিনিসগুলি কোষ নিজেই খেয়ে ফেলে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই আত্মভক্ষণ কোষের কোনো ক্ষতি করে না বরং কোষকে সজীব রাখতে সাহায্য করে। যদি এই আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়াতে কোনো সমস্যা হয়, তবে শরীরে নানা রোগের উৎপত্তি হতে পারে। 

আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজ করার জন্য প্রতিনিয়ত কোষের মধ্যে প্রোটিন তৈরি বা সংশ্লেষ হয় এবং এই তৈরি হওয়া প্রোটিনের কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য তার (প্রোটিনের) গঠনটি অ্যামিনো এসিড দ্বারা ত্রিমাত্রিক হতে হয়। যদি ত্রিমাত্রিক গঠন না হয় তবে প্রোটিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে এবং নানা রোগের সৃষ্টি করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ প্রোটিন সঠিকভাবে সংশ্লেষ হতে পারে না। ফলে এদের ধ্বংস করা, শরীর থেকে বের করে দেয়া কিংবা অন্য উপায়ে কাজে লাগানো জরুরি। কেননা শরীরে এরা থাকলে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হবে। আপনার দেহের অটোফ্যাজি প্রক্রিয়াই কিন্তু এই ক্ষতিকারক প্রোটিনকে ধ্বংস করে চলেছে। আমাদের দেহের কোষ খারাপ প্রোটিনকে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ায় ধংস করে বা ব্যাগে ভরে এনে ভেঙে ব্যবহার করে। আর এটার ক্রিয়া-কৌশল বিশ্ববাসীকে জানাতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানী ইওশিনোরি ওসুমি। তিনি দেখিয়েছেন লাইসোজোম (কোষের অভ্যন্তরে সাইটোপ্লাজমের সাইটোসলের এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠ) শুধু আমাদের ডাস্টবিন নয়, আমাদের দেহে এটা থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রক্রিয়াজাত করে। 

অর্থাৎ এটা একসাথে দুটো কাজ করে একদিকে কোষ তার নিজ আবর্জনামুক্ত করে, অপরদিকে সেই আবর্জনাকে আবার প্রক্রিয়াজাত করে আবার শরীরের নানাবিধ কাজে লাগায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যেভাবে ঘরের ময়লা চিহ্নিত করে ঝাড়ু দিয়ে একত্র করে ফেলি এবং পরে সেগুলো একটি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখটি ভালো করে এঁটে দিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিই, কোষও ঠিক একই পদ্ধতিতে কাজ করে। যখন শরীরে খাবারের সংকট তৈরি হয়, তখন অটোফ্যাজি প্রক্রিয়াটি চালু হয়। আপনার ঘরে অনেক ভালো টাটকা খাবার থাকতে আপনি নিশ্চয়ই পুরনো নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খাবেন না! শরীরের ক্ষেত্রেও তা-ই। 

#অটোফ্যাজি কখন শুরু হয়?
:- কিছু ব্যায়াম ও যখন আমরা উপবাসে থাকি। উপবাসের সময় শরীরের ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা কমে যায় ও গ্লুকাগন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এরফলে শরীর ক্ষতিগ্রস্থ কোষকে চিহ্নিত করতে পারে এবং সেই কোষকে পুন:নবিকরনে সাহায়তা করে।

#অটোফ্যাজি না হলে?
:- উত্তর খুবই সহজ- আপনার ফোনের জাঙ্ক ফাইল গুলো ডিলিট না করলে ফোন যেমন হ্যাং করে,গতিশীলতা কমে যায়, ঠিক তেমনই আপনার শরীরের গঠনগত একক যে কোষের জাঙ্ক পদার্থগুলি না সরালে সেটাও ধীরে ধীরে অকেজো হতে থাকে। অকালপক্কতা শুরু হয় মানে কুড়িতেই বুড়ি আরকি। রসিকতা নয়! ঠিক এমনটাই কিন্তু বিজ্ঞান বলছে। অটোফ্যাজি না হলে ক্যানসারের মত মারন ব্যাধি তৈরি হতে পারে। এক গবেষনায় দেখা গেছে ২৪ ঘন্টা উপবাসে লিভার ও ব্রেনের কোষের ৩০০% অটোফ্যাগোজোম( কিছু কোষীয় অঙ্গানু যেটি অটোফ্যাজি প্রকিৃয়ার পরিমাপক) এর সংখ্যা বেড়ে যায় এবং ৪৮ ঘন্টায় আরো ৩০% বেশি বেড়ে যায়।

রোজা বা উপবাস কেন আমাদের সবার করা উচিৎ ?

১. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে:-
মস্তিষ্কের সুস্থভাবে কাজ করার জন্য কিছু মেটাবলিক প্রক্রিয়া অতিপ্রয়োজনীয়। উপবাসের ফলে এইসব প্রক্রিয়া তরান্বিত হয়। এছাড়াও কিছু নিউরোট্রফিক ও জৈবঅনু( বায়োমলিকিউল) তৈরি হয় যেগুলি মস্তিষ্ক কোষ বা নিউরোনের আয়ুকাল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এগুলি নিউরোনাল নেটওয়ার্ক তৈরিতে সহায়তা করে ফলে কগনিটিভ ক্ষমতা( জ্ঞান) বৃদ্ধি পায় ও ব্রেনের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। নিউরোনের কর্মহীনতা থেকে রক্ষা করে ফলে রক্ষা পায় কিছু ভয়ঙ্কর রোগ যেমন, অ্যালজেইমার,পারকিনসন ডিজিজ।

২. অকাল বার্ধক্যে বাধা:-
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে কোষের মধ্যে যখন কার্য-ক্ষমাতা হীন প্রোটিন গুলি দিনের দিনের পর দিন জমা হতে থাকে একটা সময় সেগুলি কোষকে ধংস করে দেয়। বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনে যদি দিনের পর দিন ময়লা জমতে থাকে আর সেটি পরিষ্কার করা না হয়ে থাকে যেমন পরিস্থিতি তৈরি হয় আমাদের শরীরেও তেমন অশস্তি হয়। উপবাসের ফলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমান বৃদ্ধি পায় যেটি কোষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে। ক্যানসারের সম্ভাবনাও কমায়।
৩. পরিপাক তন্ত্রের উপর প্রভাব:-
রোজার উপবাসের ফলে সারাদিনের বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত পরিপাকতন্ত্র কে অনেক কম কাজ করতে হয়। এই বিশ্রামের ফলে অন্ত্রের শোষন ক্ষমতাও কিছুটা বৃদ্ধি পায়,প্রদাহ কমে। সাম্প্রতিক এক গবেষনায় দেখা গেছে যে উপবাসের ফলে অন্ত্রের মধ্যে একধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয় যেটি ফ্যাটের জারন ঘটিয়ে শক্তি জোগান দেয়।

৪. ডায়াবেটিসের উপর প্রভাব:-
উপবাসের ফলে টাইপ -১ ডায়াবেটিক দের দেখা গেছে প্যানক্রিয়াসের নতুন বিটা কোষ তৈরি হয়। চিকিৎসকরা দাবি করেছেন যে উপবাসের ফলে স্টেম সেলের উপর প্রভাব থাকতে পারে যার ফলে বিটা সেল ধংসের হাত থেকে রক্ষা করে। আবার উপবাসের সময় দিনের অধিকাংশ সময়ে শরীরে খাদ্য না যাওয়ায় প্রয়োজনীয় শক্তি যোগান দিতে শরীরের জমা ফ্যাট বা চর্বির দহন শুরু হয়। এরফলে শরীরের স্থুলতা কমে,লিভার বা অন্যান্য অঙ্গে জমা অতিরিক্ত ফ্যাট জারন হয়ে যায়। ফলস্বরূপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনাও কমে যায়।

৫. কার্ডিও-ভাস্কুলার ডিজিজের উপর প্রভাব:-
আমাদের খাদ্যদ্রব্যের পরিমাপে র সুবিধার্থে যে একক ব্যবহার করা হয় তাকে ক্যালরী বলে। বিজ্ঞানী ম্যাককে এবং তার সহযোগীদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, দৈনন্দিন খাদ্যদ্রব্য হিসেবে গৃহীত মোট ক্যালরীর পরিমাণ কমিয়ে আনা হলে জীবনকাল বেড়ে যায়। ১৯৮৯ সালে নিউট্রশন জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার পর অনেক বিজ্ঞানী ক্যালরী রেস্ট্রিকটেড ডায়েট এবং বিভিন্ন ধরণের ফাস্ট (তথা উপোস থাকা)-এর উপর গবেষণায় আগ্রহী হয়ে উঠেন। লক্ষণীয় ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্মেও বিভিন্ন ধরণের উপোস থাকার ধর্মীয় রীতির প্রচলন আছে। যেমন-অর্থোডক্স ক্রিশ্চিয়ানদের ক্যালরী রেস্ট্রিকটেড ফাস্টিং-যেখানে দৈনন্দিন গ্রহীত খাবারের ৪০% কমিয়ে আনা হয়, অল্টারনেট ডে ফাস্টিং-যেখানে একদিন পরপর ২৪ ঘন্টার জন্য পানি ব্যতীত সব ধরণের খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হয়। ক্যালরী রেস্ট্রিকশনের উপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, দিনের গৃহীত ক্যালরীর পরিমাণ কমিয়ে আনলে তা শারীরিক স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং বেশ কিছু জটিল অসুখের ফলে সৃষ্ট জটিলতা কমিয়ে আনে। যেমন-রক্তনালীতে চর্বি জমে সৃষ্ট অ্যাথেরোস্কলোরোসিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, কিডনি রোগ কমায়।

৬. ক্যানসারের উপর প্রভাব:-
আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে উপবাস বিভিন্ন ক্যানসার প্রতিহত করে। কিছু টিউমার কোষের বৃদ্ধিও হ্রাস করে।

ইসলামিক রোজা ও বিজ্ঞান:-
ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রোজার নিয়ম হল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অব্দি সব কিছু খাওয়া,পান করা,সেবন করা বা ধুমপান করা থেকে বিরত থাকা। ঘড়ির সময় অনুযায়ী দিনে প্রায় ১২-১৮ ঘন্টা উপস করা। আসুন, দেখি বিজ্ঞান কি বলছে- এর আগে যা আলোচনা করা হল তাতে বলা হয়েছে উপবাসের ফলে অটোফ্যাজির উপকারিতা সম্পর্কে। কিন্তু কতক্ষন ধরে এই উপস চলবে বা কতক্ষন উপস করলে অটোফ্যাজি ভাল হবে তা কিন্তু বলা হয়নি। The global diabetes community এর মতে ১৬:৮ এবং ২৪ ঘন্টা উপবাস সবথেকে কার্যকারী। অর্থাৎ প্রতিদিন ১৬ ঘন্টা উপস করে ৮ ঘন্টা খাওয়া যেটি ইসলাম ধর্মের পরিপন্থি। অথবা সপ্তাহে ২ দিন ২৪ ঘন্টা করে উপস করলেও কার্যকারী। 
এছাড়াও রোজার সময় রোজদার বিভিন্ন খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখে। বিভিন্ন নেশার দ্রব্য থেকে আসক্তি কমায়। সাথে সাথে আধ্যাত্মিক দিক থেকেও উপকৃত হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও উপবাস:- 
ইউরোপে ইদানীং উপবাসে থাকার হিড়িক দেখা যাচ্ছে । ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে ক্লিনিক্যাল ফাস্টিং সাধারণত রাতের খাবারের পর সকালের টিফিন বাদ দিয়ে একেবারে দুপুরে খেতে বলা হয়। এ ধরনের চেতনা সৃষ্টির পেছনে ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত প্রখ্যাত জার্মান চিকিৎসাবিদ ড. হেলমুট লুটজানারের একটি বই উপবাসের গোপন রহস্য( অনুবাদ) বইটিতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যপ্রণালি বিশ্লেষণ করে নিরোগ, দীর্ঘজীবী কর্মক্ষম স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বছরের কতিপয় দিন উপবাসের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সর্বপরি রোজার মাধ্যমে এভাবে জমে থাকা আবর্জনা ধ্বংস না হলে, ওইসব বিষাক্ত পদার্থ শরীরে বিভিন্ন রোগের জন্ম দিত। অন্যদিকে, গ্রিক শব্দ থেকে আগত বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত অটোফ্যাজির অর্থও একই কথা বলে। এটার ওপর ভিত্তি করে,আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ১৫০০ বছর আগে পবিত্র "আল- কোরান" এ উল্লেখিত মানব জাতির জন্য  রোজা রাখা বা উপবাসের উপর শীলমোহর দিয়েছে।
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment