অজয়ের দক্ষতায় স্বীকৃতি,পুরনো ‘কোপ’ পেরিয়ে পদক দময়ন্তী-জয়রামন-কঙ্কর-অংশুমানের!

 


Nazmul Hassan, Indiapost24 Web Desk: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ পদক ২০২৬ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এবারের তালিকায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নাম ডিজি (সদর) অজয় কুমার, আইপিএস। ‘মুখ্যমন্ত্রীর অসাধারণ পরিষেবা পদক’-এর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে একেবারে প্রথমে।

নবান্ন ও ভবানী ভবন সূত্রের দাবি,রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব,প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় রক্ষায় অজয় কুমারের ভূমিকা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশ তাই এই সম্মানকে তাঁর দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছে।

অজয় কুমারের পাশাপাশি অসাধারণ পরিষেবার জন্য পদক পাচ্ছেন নীরজ কুমার সিং, দময়ন্তী সেন, কে জয়রামন, প্রণব কুমার এবং কুণাল আগরওয়াল। তবে দময়ন্তী সেন ও কে জয়রামনের নাম ঘিরে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ মামলার তদন্তে দময়ন্তী সেনের ভূমিকা একসময় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোচনার বিষয় হয়েছিল।

অন্যদিকে, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন ২০১৩ সালে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের দুর্নীতি মামলায় তৎকালীন মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা আইএএস অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন কে জয়রামন। তার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে বাধ্যতামূলক প্রতীক্ষায় পাঠানো হয়েছিল। ২০২৬-এর নির্বাচন পর্বে নির্বাচন কমিশন ফের তাঁকে উত্তরবঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়। পরে বিজেপি সরকার প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে গঠিত কমিশনের সদস্য-সচিবও করে জয়রামনকে।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসনীয় পরিষেবা পদক পাচ্ছেন কঙ্কর প্রসাদ বারুই, সুনীল কুমার যাদব, রাঠোড় অমিতকুমার ভারত, সূর্য প্রতাপ যাদব, পুষ্পা, অংশুমান সাহা, সচিন মাক্কার এবং ড. অরবিন্দ কুমার আনন্দ।

এই তালিকায় কঙ্কর প্রসাদ বারুইয়ের নামও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। তৃণমূল আমলে কিছু সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও পরে দীর্ঘদিন তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। পুলিশ মহলের একাংশের দাবি, বসিরহাটের পুলিশ সুপার থাকাকালীন জেলার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধের পর তাঁকে কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় টেলিকম শাখায় রাখা হয়।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন বারুইকে ডিআইজি, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ করে। পরে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে আইজি, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ। সাম্প্রতিক বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারে তাঁর ভূমিকা প্রশাসনের প্রশংসা পেয়েছে বলেও সূত্রের খবর।

একইভাবে অংশুমান সাহা-র কর্মজীবনেও দীর্ঘদিন তুলনামূলক গুরুত্বহীন পদে থাকার অধ্যায় রয়েছে। পুলিশ মহলের একাংশের দাবি, তৎকালীন বিরোধী দলনেতার সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তিনি একসময় শাসক শিবিরের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। নির্বাচন কমিশন তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার করার পর নানা চাপের মধ্যেও দায়িত্বে অবিচল থেকেছেন বলে প্রশাসনিক মহলে মত রয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রকাশিত এই পদক তালিকা তাই শুধু সম্মানের ঘোষণা নয়। অতীতে উপেক্ষিত বা বিতর্কের মুখে পড়া কয়েকজন আধিকারিকের পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত হিসেবেও এই তালিকাকে দেখছে পুলিশ মহলের একাংশ।

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a Comment