জানেন কি রঙ-বেরঙের ট্যাটু ঠিক কতটা ক্ষতিকর আপনার জন্য?

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষকরা এবং বিজ্ঞানীরা প্রশ্ন তুলেছেন রঙ-বেরঙের ট্যাটু আঁকা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর? এর উত্তরটা কিন্তু ভয় পাইয়ে দেয়ার মত৷ট্যাটু বা উল্কি – বেশ কয়েক বছর ধরে গায়ে উল্কি আঁকা ফ্যাশনে দাঁড়িয়ে গেছে৷ ছাত্র-ছাত্রী, গায়ক-গায়িকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দেহও উল্কির নানা রঙে রঙিন হয়েছে৷ জার্মানিতে চালিত একটি সমীক্ষা তে  জানানো হয়েছে, ৩৫ বছরের নীচে যাদের বয়স তাদের পাঁচজনের মধ্যে একজনের গায়ে উল্কি আঁকা রয়েছে৷ 


যে রঙ ব্যবহার করা হোক না কেন সেটা যেন নিঁখুতভাবে চামড়ার বসে যায় তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে৷ রঙটি ভাল না খারাপ তা বোঝার একমাত্র উপায় হচ্ছে ট্যাটু যখন শুকিয়ে যায় তখন৷
আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এই উল্কি আপনার সঙ্গে থাকবে
কীভাবে ট্যাটু আঁকা হয়? বিদ্যুৎচালিত একটি যন্ত্রের সাহায্যে তা করা হয়৷ দেখতে তা অনেকটা ডেনটিস্টের ড্রিল মেশিনের মত যা দিয়ে দাঁতের চিকিৎসা করানো হয়৷ মেশিনের মাথায় রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি সুঁই৷ এই সুঁইটির মাথায় রঙ লাগনো থাকে৷ প্রতিবার সুঁইটি যখন চামড়ার ভেতরে প্রবেশ করানো হয় সেই সঙ্গে রঙও ভেতরে প্রবেশ করে৷ রঙের পরিমাণ এক মিলিলিটারেরও কম৷ চামড়ার যে স্তরে রঙটি লাগানো হয় তার নাম ডের্মিস৷ এই স্তরে যে কোন রঙ ঢোকাতে পারলে তা সারাজীবন দেখা যাবে৷কার্লসরুয়েতে এক ট্যাটু স্টুডিও ‘হেল ইয়াহ' এর মালিক ও টাট্টু বিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ মি.ভিক্টর বলেন ,‘‘এটা বিশেষ এক পদ্ধতি৷ সারাজীবনই থাকবে৷ আপনি যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন এই উল্কি আপনার গায়ে থাকবে৷ বিষয়টি দারুণ উত্তেজনার৷''

তবে অনেক কাস্টমারই জানেন না যে রঙ ব্যবহার করা হয় তার সঙ্গে মেশানো হয় মারাত্মক একটি রসায়নিক পদার্থ৷ এই রসায়নিক পদার্থ চামড়ার একেবারে ভিতর থেকে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে৷ আর যেহেতু এই উল্কি সারাজীবন শরীরে থাকবে তাই এই রসায়নিক পর্দাথও সারাজীবন দেহে থেকে যাবে৷ এর ফলে বিভিন্ন ধরণের অসুখ এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে"৷
এই ভাবে বিভিন্ন  পরীক্ষা  ও সমীক্ষায় যা পাওয়া গেছে তা ভয় পাওয়ার মত৷ অনেক রঙ বা কালি তৈরি করা হয় এমন কিছু রায়াসনিক পদার্থ দিয়ে যা কোন প্রাণীর ওপর ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ৷ এর মধ্যে একটি পদার্থের নাম এজো ডাই৷ রঙটি এমনিতে কোন ক্ষতি করবে না কিন্তু অন্য কোন কিছুর সংস্পর্শে আসলে তা হবে অত্যন্ত ক্ষতিকারক৷ এর মধ্যে আরো অনেক রাসায়নিক পদার্থ আছে যা ব্যবহারে কোন নিষেধ নেই কিন্তু কোন অবস্থাতেই তা মানবদেহে ব্যবহার করা যাবে না৷ এফা মারিয়া আরো জানালেন,‘‘এই পদার্থগুলো বাজার পাওয়া যায় কারণ এগুলো প্লাস্টিক বা কঠিন পদার্থের ওপর প্রয়োগ করা যায়৷ গাড়ির রঙ বা দেয়ালের রঙে তা ব্যবহার করা যায়৷ আর সমস্যা এখানেই৷ এই পদার্থগুলো মানবদেহে ঢুকে কী কী ক্ষতি করতে পারে তা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি৷''
তবে যারা নিয়মিত এসব পার্লারে আসেন তারা এসব নিয়ে চিন্তিত নন৷ কৃত্রিম রঙ দিয়ে নিজেকে রঙিন করতে হবে এই চিন্তায় বিভোর তারা৷ এসব রাসায়নিক পদার্থ তাদের কোন ক্ষতি করবে কিনা তা তারা জানতেও চান না৷ সবাই বিশ্বাস করেন সব কিছুই ঠিক আছে৷ পার্লারের মালিকরা দাম দিয়ে ভাল রঙ বা কালি কিনতে চাননা৷কারণ  যেভাবেই হোক অল্প বিনিয়োগে চাই বিশাল মুনাফা..

(দেবনাথ মোদক কর্তৃক সংগৃহীত)
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment