"মুর্শিদাবাদে এবার সংখ্যালঘু ভোটও বিজেপিতে "?

স্নেহাশিষ মুখার্জি :  রাজ্য বিজেপির প্রচারের মুখ টলী তারকা ও রাজ্য নেতা  জয় ব্যানার্জীর জনসভায় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে.প্রতিদিন ৫০০ - ৮০০ জন করে বিভিন্ন দলের দলীয় কর্মী -সমর্থকরা  বিজেপিতে যোগদান করছেন .একই ভাবে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় তারই প্রতিফলন ঘটে যে জয়ের ডাকে সাড়া  দিয়ে একদা অধীর দুর্গ  ও বর্তমান শাসক দলের  সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেও  প্রায় ৯০০ জন সংখ্যালঘু কংগ্রেস দলীয় কর্মী সমর্থকরা দিনের আলোয়ই পদ্মের পতাকা হাতে তুলে নিলেন.. কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত উপপ্রধান হাসান হাবিবের নেতৃত্বে এই  ৯০০ জন  বেলডাঙার মেহুলা ঘোষ পাড়ায় জয় ব্যানার্জীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন ও এই জন সভার ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো  |তবে বর্তমান কালে তৃণমূল সরকারের আমলে নবাবের শহর মুর্শিদাবাদে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল কারণ মান্নান হোসেনের আমলে কংগ্রেস ও সিপিএম থেকে  তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করার  প্রক্রিয়াটা যদিও  মুর্শিদাবাদবাসীর কাছে নতুন কিছু নয়,তবে কংগ্রেস দল থেকে বিজেপি তে এতো মানুষ এক সঙ্গে আসাটা বেশ অবাকই লাগছে  .. আর এটাও  প্রকাশ্য যে মান্নান হোসেনের  অকাল প্রয়ানে ইতিমদ্ধেই গোটা মুর্শিদাবাদের বুথ থেকে পঞ্চায়েত স্তর ও  ব্লক স্থানীয় সাংগঠনিক নেতাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস এর কোথায় যেন একটা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে  | প্রয়াত মান্নান হোসেনের যে সাংগাঠনিক  দক্ষতা বিভিন্ন দল থেকে যোগ্য নেতাদের ও কর্মী-সমর্থকদের ভাঙিয়ে তৃনমূলে যোগদান করানোর একটা বিশেষ ক্ষমতা সেটা বর্তমান জেলা সভাপতি সুব্রত সাহা ঠিক এই বিষয় কতটা কার্যকরী হতে পারবেন তা নিয়েও মুর্শিদাবাদের অলিতে গলিতে জল্পনা তুঙ্গে | এতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, তাহলে কি নতুন জেলা সভাপতি সুব্রত সাহার নেতৃত্বের উপর অন্য দল থেকে আগত ভোটাররা আস্থা রাখতে না পারায় বিজেপি এর ভোট ব্যাঙ্ক বাড়ছে নাকি অন্য কিছু যদিও তিঁনি পূর্বে জেলার এই পদে নিযুক্ত ছিলেন | তবে অপরদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের  আরএকঅংশ  মনে করেন সুব্রত সাহার সাংগাঠনিক ও রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে কোন প্রশ্ন না থাকলেও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কিছু মুখোশধারী লোকজনের আনাগোনা নিয়ে | তাঁর ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সিপিএম ও অন্য দল থেকে কিছু আগতরা জামা পাল্টে শুধু তৃণমূলে এলেও তাঁদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি | এক শ্রেণীর মানুষ আছে যাঁরা উন্নয়নের পরিপন্থী তাঁরা সরকারের বিরোধীতাই করে যাবে | এরই ফলস্বরুপ কি দলের ভোটাররা কি পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না ? না কি তাঁরা সুব্রত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যাক্তি বর্গের উপর অনীহা প্রকাশ করেই বিজেপিতে যোগদান করছেন ?  তার প্রতিফলন হিসাবে কি আজ অধীর গড় থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোকেরা বিজেপিতে যোগদান করল ? ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে  বিজেপির বিভিন্নভাবে আক্রমণ তৃনমূলের উপরে ও দলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি তাতে প্রমাণ করছে যে নিঃসন্দেহে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে মুর্শিদাবাদে নতুন একটা সমীকরণ গড়তে চলেছে বিজেপি ..

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment