"নদীয়া জেলাশাসকের কড়া হস্তক্ষেপেই আইডিবিআই ব্যাঙ্ক থেকে উধাও টাকা আবার ফেরৎ "

স্নেহাশিস মুখার্জী :সম্প্রতি আইডিবিআই ব্যাঙ্কের নদিয়ার কৃষ্ণনগর শাখায়  কালীগঞ্জ বিডিও অফিসের এমএসডিপি একাউন্ট থেকে উধাও হওয়া ৮৫ লক্ষ্য ৭০ হাজার ৬৫০ টাকা ফেরৎ এল সেই একাউন্টেই | ছত্রিশগড়ের রায়পুরের একটি সংস্থা এই টাকাটি তুলেছিল | তারপর সেই সংস্থার তরফ থেকেই টাকাটি এদিন ১৬ ঐ ডিসেম্বর ফেরৎ আসে এই সরকারি একাউন্টে | এখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে,সরকারি একাউন্ট থেকে এতো টাকা উধাও হয়েছিল কি ভাবে ? সেই বিষয়ে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন আইডিবিআই এর মত একটি  বিশ্বস্ত  অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে রাতারাতি সরকারি একাউন্টের এতো পরিমান টাকা উধাও হওয়া মোটেই সহজ বিষয় নয় |বৃহৎ থেকে বৃহত্তর জালচক্র এর সঙ্গে জড়িত,না হলে এত বড় প্রতারণা কি কখনো সম্ভব ? আবারও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিরোধী প্রশ্ন উঠছে একটা সরকারি একাউন্টের ডিটেলস অন্য রাজ্যের একটা বেসরকরি প্রতিষ্ঠান বা অন্য ব্যক্তি পায় কি ভাবে?  নিঃসন্দেহে জাল চেক দিয়ে এই ঘটনাটি ঘটেছে, তো সেই জাল চেকটির মারফৎ কিভাবে ব্যাঙ্কের কর্মরত ম্যানেজারের চোখে ধুলো দিয়ে আদানপ্রদান সম্পাদিত হয়? 
এই প্রসঙ্গে আমরা ২০১৫ সালের WBCS(Exe) টপার বিডিও কালীগঞ্জ নাজির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিঁনি জানান " যে আইডিবিআইএর মত একটা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক কিভাবে ৮৫ লক্ষ্য ৭০ হাজার ৫৬০ টাকার মত একটা বৃহৎ রাশির চেক একটা এসএমএস এলার্ট বা কোন ফোন কল কনফারমেশন ছাড়াই  পেমেন্ট ক্লিয়ারেন্স করে ?  যদিও সেই বিষয়টা সম্পুর্ণ রুপে তদন্ত সাপেক্ষ | আবার  সেম একাউন্ট  থেকে সেম সিরিয়াল নম্বরের দুটি পৃথক চেক ইস্যু হলেও সেক্ষেত্রে দুটিই পেমেন্ট কর্মরত ব্যাঙ্ক কর্মীদের মাধ্যমে হয়েছিল কিভাবে?" 
নদিয়া জেলার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিঁনি জানান -" কালীগঞ্জের ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার নাজির হোসেন নিঃসন্দেহে আমাদের নদিয়া জেলার কয়েক জন দায়িত্ত্বশীল ও জনপ্রিয়  ব্লক আধিকারিকদের  মধ্যে একজন| তিঁনি খুব সক্রিয়তার সঙ্গে সব কাজ করে ও সঠিক  আপডেট রাখেন | এই ভাবে একজন জেলাশাসক হিসাবে আমি ওনাকে চিনি | যখন নাজিরের একাউন্ট থেকে এই ঘটণাটি ঘটেছে তখন উচ্চপদস্থ কর্তা হিসাবে আমি খুবই গুরুত্বসহকারে ও সচেতনতার সঙ্গে কেসটা নিয়ে ব্যাঙ্ক অথরিটি নির্দেশ দিই যে যেভাবেই হোক সরকারী টাকা সরকারী একাউন্টে ফেরৎ আনতেই হবে"| কারন তিঁনি কালিগঞ্জ বিডিও কর্তৃক আপডেট ও একাউন্ট ট্যালি করে স্পষ্টত দেখতে পান এটা নিঃসন্দেহে  ব্যাঙ্কের মারাত্মক ভুল | 
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ  প্রশ্ন পুরো নাগরিক সমাজকে নাড়া দিচ্ছে বিষয়টি হল সরকারের ব্যবহৃত চেক বইয়ে অব্যাবহৃত চেক নম্বরটি কিভাবে জালচক্রের সেই প্রতারক জানতে পারে ? নিঃসন্দেহে এটা একটা ইঙ্গিত বহন করছে যা তদন্ত সাপেক্ষ | পর্যবেক্ষকের একাংশের মতামত অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে নিঃসন্দেহে ব্যাঙ্ক কর্মী এর কোনো যোগ-সাজোগ,না হলে পরবর্তী ঐ অব্যাবহৃত চেক নম্বরটি কিভাবে তিঁনি জানলেন ? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে | যদিও বাকিটা তদন্ত সাপেক্ষ বিষয় |   নাজির হোসেন আরো বলেন "সাম্প্রতিক বাংলাদেশে যেমন মুক্তি দিবস হয় এই টাকাটি একাউন্টে ফিরে আসায় আমি যেনো মুক্তি দিবস পেয়েছি | কোথায় যেনো নিজের কাছে খুব ছোট লাগছিলো  | জানতাম আমার তরফ থেকে কোন ভুল হয়নি | কিন্তু তবুও যেহেতু ব্লকের আধিকারিক হিসাবে দোষ আমার ওপর বর্তাচ্ছে | কিন্তু এই টাকাটা ফিরে আসা  প্রশাসনের একটা বড় জয় এবং একমাত্র জেলাশাসক ও অন্যান্য আধিকারিকদের 
একান্ত সহযোগিতায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে "| 
নদীয়া প্রশাসন সূত্রের খবর তদন্ত চলছে,খুব শীঘ্রই প্রতারকদের সামনে আনা হবে ও যথাপোযুক্ত আইনতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| উধাও হওয়া টাকা ফিরে আশা হয়তো উক্ত জেলাশাষক ও ব্লকের আধিকারিকের পক্ষ্যে স্বস্তির নিঃস্বাস হলেও সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টা কোথায় জেনো একটা অনিশ্চয়তা নাড়া দিচ্ছে | তাহলে কি একজন সাধারণ মানুষ ব্যাঙ্ক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গুলোর উপর ভরসা রাখতে পারবে না ? এই গোটা ঘটনায় রীতিমতো সমস্ত নদিয়াবাসী সহ সারা পশ্চিমবঙ্গে ব্যাঙ্ক একাউন্ট হোল্ডারদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে | সরকারি গুরুত্বপূর্ণ একাউন্টে যদি এরকম  ঘটনা ঘটে তাহলে পার্সোনাল একাউন্টের ক্ষেত্রে মানুষ কি করবে ? তাহলে তাঁদের কষ্টের অর্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে তাঁরা কি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগবে? নাকি মানুষের বিশ্বাস এইসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের থেকে উঠে যাবে ? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে.

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment