নিয়মিত টক দই খাওয়া হার্টের পক্ষে এতটা উপকারী!!!

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্র অনুসারে নিয়মিত টক দই খেলে হার্টের কোনও ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টে নানাবিধ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। শুধু তাই নয়, কমে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও। তাই তো যাদের পরিবারে এই মরণ রোগের ইতিহাস রয়েছে তাদের দুবেলা টক দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

  গবেষকদের করা এক পরীক্ষা অনুসারে, টক দইয়ের মধ্যে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া এবং আরও সব উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে ধীরে ধীরে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে শুরু করে। 
নিয়মিত দই খেলে যে শুধুমাত্র হার্টের ক্ষমতাই বাড়ে শুধু  এমন নয়  মেলে আরও নানাবিধ শারীরিক উপকার। 

১. ভিটামিনের ঘাটতি দূর হয়: নিয়মিত দই খাওয়া শুরু করলে শরীরে পটাশিয়াম, ফসফরাস, আয়োডিন এবং জিঙ্কের ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ভিটামিন বি৫ এবং বি১২-এর মাত্রাও বাড়তে থাকে। 

২. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে : দইয়ে পরিমাণ মতো বেসন এবং অল্প করে লেবুর রস মিশিয়ে যদি মুখে লাগাতে পারেন তাহলে ত্বক নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকে না। আসলে দইয়ে থাকা জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং ফসফরাস এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পলন করে থাকে। প্রসঙ্গত, এই ফেস প্যাকটি সপ্তাহে কম করে ২-৩ বার লাগালে দারুন উপকার মেলে।

৩. হাড় এবং দাঁতের জন্য খুব উপকারি: দুধের মতো দইয়েও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়াম। এই দুটি উপাদান দাঁত এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: বেশি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দইয়ে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা পাকস্থলিতে হজমে সহায়ক ভাল ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই কারণেই তো বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতে দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। 

৫. ওজন হ্রাস পায়: অতিরিক্তি ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তাহলে নিয়মিত এক বাটি করে দই খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন দারুন উপকার মিলবে। বিশেষত ভুঁড়ি কমাতে দইয়ের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। 

৬. হার্টের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে: রক্তে খারাপ কোলেস্টরল বা এল ডি এল-এর মাত্রা কমানোর পাশাপাশি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয় দই। তাই তো নিয়মিত এই দুগ্ধজাত খাবারটি খেলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। 

৭. স্ট্রেস এবং অ্যাংজাইটি কমাতে সাহায্য : সাধারণত দই খাওয়ার পর আমাদের মস্তিষ্কের অন্দরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যে মানসিক চাপ এবং অ্যাংজাইটি কমতে শুরু করে। 

৮. দুধের আদর্শ বিকল্প: এমন অনেকই আছেন যারা একেবারে দুধ খেতে পারেন না। কারও গন্ধ লাগে, তো কারও বমি পাই। এই ধরনের সমস্যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলা হয়। প্রসঙ্গত, দুধ থেকে দই হওয়ার সময় ল্যাকটোজ, ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে যায়। ফলে দই খেলে না গা গোলায়, না বমি পায়।

৯. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি : দইয়ে উপস্থিত উপকারি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করার পর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতটাই শক্তিশালী করে দেয় যে সংক্রমণ থেকে ভাইরাল ফিবার।


source-boldsky.com
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment