কালিগঞ্জের বিডিও নাজির হোসেনের হস্তক্ষেপে রোধ হল বাল্য বিবাহ !!!


স্নেহাশিষ মুখার্জি :
মুর্শিদাবাদ লাগোয়া সীমান্ত সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী জেলা নদিয়ার কালীগঞ্জে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় অনুপ্রেরিত হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী দিদির এক নাবালিকা ' কন্যাশ্রী ' যোদ্ধা বাড়ী থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বাড়ীর সঙ্গে সমস্তরকম সম্পর্ক ছিন্ন করে সুবিচারের আশায় দ্বারস্থ হল কালীগঞ্জ স্থিত মীরা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পুস্প বিশ্বাসের |

 অভিযোগ বাড়ীর অভিভাবকরা নাবালিকা অবস্থায় , তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে না জানিয়ে জোর করে তার বিবাহ স্থির করে | বারংবার বারণ করা সত্বেও তার কথার কোন গুরুত্ব দেওয়া হয় না | প্রতিবাদ করলে জোটে মারধর , অকথ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন | তাই সে বুধবার দিন মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ী থেকে বেরিয়ে  স্কুল এর উদ্দেশ্যে রওনা হয় |বাড়ী থেকে বেরোবার সময় পড়াশুনার বইখাতার সঙ্গে সে যে নাবালিকা তার প্রমাণস্বরূপ তার ভোটার কার্ড , আধার কার্ড , ব্যাঙ্কের পাশ বই পর্যন্ত্য সঙ্গে করে নিয়ে আসে যা তার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে দাখিল করে | 


অল্প বয়সে তার বিবাহকে কেন্দ্র করে নিত্যদিনের অশান্তি আর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে যে তাঁর শরণাপন্ন হয়েছে এবং এখান থেকে আর কোনওদিন বাড়ীতে ফিরবে না তাও সেই ' কন্যাশ্রী ' যোদ্ধা লিখিত অভিযোগে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কে জানায় | তার পরিবারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পত্রে সে আরও জানায় যে সে অন্য পাঁচটা মেয়ের মত পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চায় | কিন্তু তার বাবা মা মেয়ের এই ন্যায্য দাবীকে সমর্থন না করে বিবাহের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে | এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত মেয়েটির বাবা মার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের অভিযোগ তাঁদের মেয়ের নাকি অন্যান্য অনেক ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ আছে | 

এছাড়াও সংখ্যালঘু পরিবারে এই ধরণের সম্পর্কের জেরে  যদি কোন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে যায় তাহলে তাঁরা সমাজে মুখ দেখাবে কি করে ? তাই যখন একটা যোগাযোগ হয়েছে তখন তা কোনওভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না | তাই যে কোন মূল্যেই বিয়ে তাকে করতেই হবে | আর তাঁদের সেই রকম কোন স্বচ্ছল অবস্থা নয় যে এখানে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে অন্যত্র তার বিবাহ দিতে পারবে | 


ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধান শিক্ষিকা কালবিলম্ব না করে মেয়েটির লিখিত আকারে জানান অভিযোগ পত্র কালিগঞ্জ বিডিওর কাছে পেশ করেন | পরবর্তীতে বিডিও নাজির হোসেন মেয়েটির স্কুলে  প্রশাসনের তরফ থেকে কয়েকজনকে পাঠান |কিন্তু মেয়েটির বাবা মা তাঁদের সঙ্গে কোনওরকম সহযোগিতা তো দূরের কথা , তাঁদের অপমান করে বের করে দেন | এরপর কালীগঞ্জ বিডিও নাজির হোসেন নিজে উদ্যোগী হয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝাতে গেলেও তিনিও এই অভাবনীয় পরিস্থিতির স্বীকার হন |

 কোনওরকম উপায়ান্তর না থাকায় মেয়েটিকে স্কুল এবং প্রশাসনের তরফ থেকে বাড়ীতে যাবার জন্য বলা হলে ' মেয়েটি জানায় সে আর বাড়ী ফিরতে চায় না | কারণ তার ভয় বাড়ীতে গেলে ওরা ওকে মেরে ফেলে দেবে | হয়তো আর পড়াশুনাও করতে দেবে না | তাই সে বাঁচতে চায় , সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় ' | অবশেষে কালীগঞ্জ বিডিওর হস্তক্ষেপে মেয়েটিকে কৃষ্ণনগর হোমে পাঠানো  হয় | কাল থেকে তার নতুন জীবন শুরু হবে আর পাঁচজন অসহায় মেয়ের মত | যার পরিবার থেকেও নেই , এক কঠিন বাস্তবকে সামনে রেখে তাকে এগিয়ে যেতে হবে নিজের লক্ষ্যে . তবেই না সে ' কন্যাশ্রী ' যোদ্ধা  | দেখিয়ে দিতে হবে তার পরিবারকে যে এক রতি মেয়ে বলে তার ইচ্ছের কোন দাম নেই ? সেদিনের  দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে তার সহপাঠী ' কন্যাশ্রী ' যোদ্ধারা , স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা পুষ্প বিশ্বাস সর্বপরি কালীগঞ্জ বিডিও নাজির হোসেন  সাহেব সহ সমগ্র প্রশাসন যে কবে এদিন আসবে যেদিন মেয়েটি জোর গলায় সমাজকে বলবে , তার পরিবারকে বলবে 'সেদিন তোমরা ভুল ছিলে , আমিই ঠিক ছিলাম | মেয়ে বলে আমাকে অবহেলা কোরো না | আমারও ইচ্ছের দাম আছে '| 


কালীগঞ্জ বিডিও নাজির হোসেন বলেন - আমরা চাই সমাজের প্রতিটা মেয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচুক | তার ইচ্ছের একটা গুরুত্ব দেওয়া হোক | কারণ সে মেয়ে বলে অবহেলিত হবে , তাকে ব্যাবহার করা হবে সেটা আমরা চাই না | তার  জন্যই ছুটে যাওয়া , এবং গিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো | এমতাবস্থায় তাকে আমরা হোমে পাঠিয়েছি ঠিকই , তবে তার সঙ্গে তার ' ' কন্যাশ্রী ' ,' রূপশ্রী ' বা স্কলারশিপের জন্য সর্বারকম ব্যাবস্থা আমরা করব , ওর পাশে আমরা আছি ' | দেখা যাক এই এক রতি অভিমানী মেয়ে জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করতে পারে কি না ? না হোমেই তার কফিনের  শেষ পেরেক টা সে নিজেই পুতল তা সময়ই বলবে |
Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment