উগ্র জাতীয়তাবাদ ধর্মীয় মেরুকরণের অস্ত্র




দিলীপ চট্টোপাধ্যায়: ১০ই মে কর্ণাটকে বিধানসভা নির্বাচন। এ বছরের শেষে মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, তেলেঙ্গানা ও রাজস্থানে বিধানসভা নির্বাচন

হওয়ার কথা। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন প্রচার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কর্ণাটকে হেরে যাওয়ার দ্বার প্রান্তে মোদী অমিত শাহরা খেলা ঘোরাতে প্রচারে একাধিক অস্ত্র কাজে লাগিয়েছেন।

কংগ্রেস সহ বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা মূল্যবৃদ্ধি, বেকারি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের ইস্যুকে পিছনে ঠেলে গেরুয়া শিবির আসলে উগ্র জাতীয়তাবাদ, উগ্র দেশপেম ও ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে নেতিবাচক ইস্যুকে পিছনের সারিতে ঠেলে দেওয়ার কৌশল নিতে চলেছেন। কর্ণাটকে ইতিমধ্যে হিজাব অভিন্ন দেওয়ানি আইন, গো মাংস, টিপু সুলতানকে ঢাল বানাতে চাইছেন হিন্দুত্ববাদী শিবির। কর্ণাটকে বিজেপি শাসনে দুর্নীতি, কাটমানি,দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি, বেকারির ইস্যুকে অস্ত্র করতে চাইছে কংগ্রেস। ঠিক তখনই ধর্মীয় মেরুকরণে বিজেপি লাভজনক সমীকরণের জন্য প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কর্ণাটকে বিজেপির গোপন বন্ধুরাও কংগ্রেসের সমর্থন ভিত্তিতে থাবা বসিয়ে গেরুয়া শিবিরকে স্বস্তি দিতে চাইছে রাজনৈতিক মহল মনে করছে যে, শুধু কর্ণাটক নয়,মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড়, তেলেঙ্গানা ও রাজস্থানে যে কোন মুল্যে জিততে মরিয়া মোদী-শাহ- নাড্ডারা। একমাত্র তেলেঙ্গানা ছাড়া বাকি চার রাজ্যেই বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ শতাব্দী প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেস ও তাদের চালিকাশক্তি গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধেই। তাই এইসাব রাজ্যে কোনঠাসা অবস্থায় থাকা মোদী শিবির পাল্টা প্রচারে নেমে পড়েছেন। ২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী শিবিরের কাছে এটা হল আত্মসন্মান রক্ষা ও যে কোন মূল্যে বিজয়ের লড়াই। সেমিফাইনালে জিতলে যে মোদী- শাহরা বাড়তি উৎসাহ পাবেন তা বলাই বাহুল্য। মোদী শাহরা কোণঠাসা হওয়া ইস্যু থেকে বেরিয়ে আসতে উগ্র জাতীয়তাবাদ, উগ্র দেশপ্রেমের পাশে ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণকে আঁকড়ে ধরতে চলেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a Comment