নদিয়ার বিডিও নাজিরের জনসংযোগ ও মানবিক রূপের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ

স্নেহাশিষ মুখার্জি :রাজ্যে তৃনমূল সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া সারা বাংলায় প্রভাব ফেললেও নদিয়ার কালিগঞ্জ ছিল ব্রাত্য, এমন টাই  অভিযোগ কালিগঞ্জ থানার একাংশ মানুষের থাকলেও পাশাপাশি বর্তমানে বিডিও নাজির হোসেন আসার পর তাঁদের যে জীবনযাত্রার মানের কিছুটা উন্নয়ন,সর্বোপরি সরকারি প্রকল্পগুলির সুযোগসুবিধা গুলির আওতায় যে তাঁদের নাম নথিভুক্ত হচ্ছে তা তাঁদের কাছে এক বড় পাওনা বলেই মনে করেন কালিগঞ্জ ব্লকের পিছিয়ে পড়া এক শ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষজন | তাঁদের কাছে বিডিও নাজির হোসেন ঈশ্বর প্রেরিত দূত বলেই তাঁদের বিশ্বাস | 

কথা হচ্ছিল কালিগঞ্জ থানার অন্তর্গত দেবগ্রামের যমপুকুরের তালতলা পাড়ার সাহেব শেখের সঙ্গে | তিঁনি বলতে থাকেন  পূর্বেও অনেক বিডিও এসেছে আবার চলেও গেছে , কিন্তু গরিব দুঃখীদের জন্য কারোরও কিন্তু প্রাণ কাঁদেনি | ওনাকে ভগবান কি দিয়ে তৈরি করেছে জানিনা তবে আজকে আমার বাবা যেটুকু সময় বেঁচে আছে তা তাঁরই দান এটা সবার সামনে বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই | ২০১৬ সালে সাহেব শেখের বাবা নায়িম শেখের দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে যায় | তখন সাহেব বাবার শারিরিক অসুস্থতার জন্য স্থানীয় অনেক বার বিডিওর দ্বারস্থ হই কিন্তু সেইসময় তৎকালীন বিডিও সরাসরি  জানান তিঁনি অপারগ ,তাঁর ক্ষমতা খুবই সীমিত, এতে তাঁর কোন হাত নেই এবং পাশাপাশি তিঁনি সাহেবকে নবান্ন যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এড়িয়ে যান  | পরবর্তীতে সিমীত বিষয় সম্পত্তি বিক্রি করে বাবার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অসমর্থ হলে বিভিন্ন মানুষ জনের মুখ থেকে শুনে আমাদের বর্তমান বিডিও নাজির সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করি | তিঁনি বাবাকে  সরকারের "স্বাস্থ্য-সাথী"  প্রকল্পের আওতাভুক্ত করেন | ফলে অনেক সহজেই বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও বাবার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস | এছারাও উঁনি আসার পর প্রকৃত দুঃস্থ অসহায় মানুষেরা সরকারের খাদ্য-সাথী প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে , ব্লকের প্রতিটি প্রকৃত অসহায় ও প্রকৃত প্রাপ্য দার পুরুষ ও মহিলার হাতে শীত বস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে ,রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে , এককথায় বিডিও হিসাবে ওনার কোন বিকল্প নেই | 


এরপর তাঁর এতো জনপ্রিয়তার কারন খুঁজতে ও খবরের সত্যতা যাচাই করতে আমরা উপস্থিত হই আরো এক জায়গায় আরো এক জনের কাছে নাম তার আঁখিয়া বেওয়া | তাঁর সাথে আমরা কথা বলে জানতে পারি এই আঁখিয়া বেওয়া সত্যিই একজন অসহায় গরীব মহিলা | যাঁর স্বামী নিরুদ্দেশ , এক ছেলে এক মেয়ে দুজনেই মানসিক ভারসম্যহীন যাঁদের রাজ্য সরকারের ঘরের প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে | 
পাশাপাশি ওয়েটলিফটার অপু সাহার সঙ্গে কথা বলে  বিডিও নাজির সম্পর্কে জানতে চাইলে তিঁনি বলেন আগামী ৪ঠা এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আমাদের এশিয়ার একটা মিট হচ্ছে যেখানে আমাদের বিডিও স্যার আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন আর্থিক সহায়তা করবার | 
এইভাবে এই সব বিষয়গুলির বিষয়  কালিগঞ্জ বিডিও নাজির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিঁনি মন্তব্য করে বলেন "আমি একজন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা  এক কৃষকের ছেলে | আমি জানি গরিবী কি | আমি খুব কাছ থেকে এটা দেখেছি | তাই আমি চেষ্টা করবো সরকারি একজন আধিকারিক হিসাবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এঁনাদের পরিষেবা দেবার , আর এগুলো সবই সরকারের প্রকল্প | আমি কেবলমাত্র সঠিক সময়ে সঠিক প্রাপ্পদারদের কাছে পৌঁছে দেবার চেষ্টা করছি মাত্র"|

এই ভাবে খুবেই কম সময়ের পরিসরে কালিগঞ্জের আপামর সাধারণ মানুষের মনে  বিডিও নাজির এমন একটা জায়গা করে নিয়েছেন তাতে কোন দিন তার বদলির অর্ডার এলে কালিগঞ্জের মানুষ জনেরা  তাঁকে আদৌ ছাড়বে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এলাকার মানুষের মধ্যে | 

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment