বিজেপির বিরোধিতায় বঙ্গে অভিন্ন মঞ্চ?

 



Staff Reporter,Indiapost24:পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গই‌। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে জাতীয় রাজনীতিতে।বিজেপি আরএসএস ও মোদি বিরোধী তাকে অস্ত্র করেই নির্বাচনের ময়দানে একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অপরদিকে বাম-কংগ্রেস ও আব্বাস সিদ্দিকীর জোট অপর আর এক প্রান্তে সিপিআইএম লিবারেশন, এস ইউ সি, নকশালপন্থী ও মাওবাদী নানা অতি বামপন্থী ও চীনপন্থী সংগঠন। তাছাড়া পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া, এস ডি পি আই, জামাতসহ একদিকে মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন। 


পশ্চিমবঙ্গের ৮ পর্বের নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততোই বিজেপি ও আরএসএস আতঙ্কে রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র হচ্ছে। রাকেশ টিকায়েত, যোগেন্দ্র যাদব, মেধা পাটেকর,হান্নান মোল্যার মত চিহ্নিত বিজেপি বিরোধীরা পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয়।তারা সরাসরি বিজেপি কে পরাস্ত করার ডাক দিয়ে তৃণমূল মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন।


জাতীয় স্তরে কংগ্রেস, এমসিপি, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি ও বাম দলগুলোর নেতারা জাতীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় বঙ্গে বিজেপি কে হারাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এর পাশে লিবারেশন, মাওবাদী ও নকশালপন্থী রা গোপনে টার্গেট বিজেপি এজেন্ডায় কার্যত মমতা ও তৃণমূলের হয়ে ব্যাট ধরেছেন। ফ্যাসিবাদী ও হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপি আরএসএস কে হারানোর প্রাথমিকতায় জোর দিচ্ছেন লিবারেশন সহ অতি বাম দলগুলি। 


একইভাবে বাম-কংগ্রেস আব্বাস সিদ্দিকীর জোট প্রাণপাত করে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দুই পর্বের নির্বাচনের আগে বিজেপি আরএসএস বিরোধিতার এজেন্ডাকে সামনে এনে রাজ্যের মানুষকে হিন্দু সাম্প্রদায়িক ও ফ্যাসিবাদী শক্তি বিজেপি আরএসএসের বিপদ নিয়ে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন।বাম কংগ্রেস ও শেষ মুহূর্তে লিবারেশনের লাইনে বিজেপির বিরোধিতা বাড়াচ্ছে। যা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সি পি আই এম এল লিবারেশন পশ্চিমবঙ্গে কোন প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক শক্তি ও নয়। লিবারেশন ও অন্য নকশালপন্থী ও অতি বাম দলগুলোর সঙ্গে মুসলিম মৌলবাদী শক্তি গুলির যোগাযোগ আছে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। পিএফআই, এস ডি পি আই, জামাতে ইসলামী, মিম প্রভৃতি মুসলিম মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে ও বামপন্থীদের ঘনিষ্ঠ যোগ সূত্র আছে এমন অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। যা অস্বীকার করেছে অতি বামেরা।


দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে একদা কংগ্রেস বিরোধিতার বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন সি পি আই এম এল লিবারেশন দলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য।ইদানীং তিনি কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেস সম্পর্কে নরম মনোভাব নিয়ে বিজেপি আরএসএস বিরোধিতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তা বলাই বাহুল্য।



এদিকে প্রবীণ এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার 5 রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। পাওয়ার এর মতে কেরালায় বিজেপি দুই অঙ্কের আসনেই পৌঁছাতে পারবে না। কেরালায় দ্বিতীয়বার বামেরাও ক্ষমতায় ফিরবে। তামিলনাড়ুতে এআইএডিএমকে বিজেপি জোট হারবে, এখানে ডিএমকে কংগ্রেস ও বাম দলগুলো ক্ষমতায় আসবে। পুদুচেরিতেও বিজেপি ও তার সঙ্গীরা হারবে।শারদ পাওয়ার তাৎপর্যপূর্ণভাবে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে ও মত দিয়েছেন। এনসিপির রাজ্য সভাপতি ও বাম জামানার প্রাক্তন মন্ত্রী অধ্যাপক প্রবোধ চন্দ্র সিংহের পাঠানো রিপোর্ট কে হাতিয়ার করার পাশে, পাওয়ার নিজস্ব ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বলছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে মোদি অমিত সাহা যত ই চেষ্টা করুন না কেন এখানে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরবেন মমতাই। নন্দীগ্রামে মমতাই বিজয়ী হবেন। শারদ পাওয়ার মনে করেন যে,পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে একমাত্র অসময়ে বিজেপি'র জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।এনসিপি চায় পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু'শোর বেশি আসন নিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরুন।

Share on Google Plus Share on Whatsapp



0 comments:

Post a comment